শান্তিচুক্তি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
শান্তিচুক্তি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৯

শান্তিচুক্তি যে কারণে অনিবার্য ছিল

পার্বত্য শান্তিচুক্তির ২২ বছর পূর্ণ হলো। মনে পড়ছে ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বরের কথা। দিনটি ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে স্মরণীয় ও বিশ্বশান্তির জন্য আলোড়ন সৃষ্টিকারী ঘটনা। উল্লেখ্য, ১৯৭৩ সালের মার্চ মাসে অর্থাৎ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আমলে পাহাড়ি জনগণের নেতৃত্বে ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি’ নামে একটি রাজনৈতিক সংগঠন গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে এর সঙ্গে যোগ হয় ‘শান্তিবাহিনী’ নামে একটি সামরিক শাখা। ১৯৭৫ সালের আগস্ট মাসে বঙ্গবন্ধুকে নির্মমভাবে হত্যা করা হলে জনসংহতি সমিতির নেতৃবৃন্দ সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে চলে যান। ১৯৭৫ থেকে ১৯৭৭ সালের মধ্যে শান্তিবাহিনী সামরিক দিক থেকে শক্তিশালী হয়ে ওঠে। এর সদস্য সংখ্যা দিন দিন বাড়তে থাকে। বলা হয়ে থাকে, ভারতের ত্রিপুরায় ঘাটি স্থাপন করে সেখান থেকে অভিযান পরিচালনা করতে থাকে শান্তিবাহিনী। ১৯৭৭ সালে তারা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি সাঁজোয়া বহরের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ হামলার পর সেনাবাহিনী ওই অঞ্চলে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করে এবং পার্বত্য চট্টগ্রামকে ২৪তম ডিভিশনের জিওসির অধীনে আনা হয়। এরপর বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পাল্টা আক্রমণ শুরু করে।

বাংলাদেশের অনন্য অর্জন পার্বত্য শান্তিচুক্তি



পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের মোট আয়তনের এক-দশমাংশ। আমাদের জনসংখ্যার ঘনত্বের বিবেচনায় মোট আয়তনের এক-দশমাংশ বিশাল এলাকা। সেখানকার ভূমি বিন্যাস, স্থানীয় উপজাতীয় জনগণ, অভাবনীয় ও অনাবিষ্কৃত প্রাকৃতিক সম্পদ এবং সর্বোপরি ভৌগোলিক অবস্থান বাংলাদেশকে অপার বহুত্ববাদের সৌন্দর্যে সৌন্দর্যমণ্ডিত করেছে। ১৯৪৭ সালের ভ্রান্ত ও বেদনাদায়ক দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে উপমহাদেশ দ্বিখণ্ডিত হলে আমরা পূর্ব বাংলা, পরবর্তী সময়ে পূর্ব পাকিস্তান পাকিস্তানের অংশ হয়ে গেলাম। মাতৃভূমি দ্বিখণ্ডনের পরিণতিতে দুই সম্প্রদায়েরই মানুষের তীব্র রক্তক্ষরণের গভীর ক্ষত এবং লাখ লাখ ভাসমান মানুষের মহাবিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে যে ঘৃণা, বিদ্বেষ ও দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হলো, তা এখনো স্থায়ীরূপে বিদ্যমান। এর থেকে বের হতে পারলে রক্তের বন্ধন, ইতিহাস ও জাতিসত্তার সংযোগের যে শক্তি, তার মাধ্যমে এই উপমহাদেশ ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকেও আরো অনেক শক্তিশালী হতে পারত। কিন্তু দুঃখজনক হলেও আমরা বিষাদময় সেই লিগাসি থেকে বের হতে পারিনি, পারছি না। তাই সেই রক্তক্ষরণ ও বিদ্বেষ থেকে উৎপত্তি দ্বন্দ্বের ফলে জন্মের শুরু থেকেই ভারত-পাকিস্তান পরস্পরের শত্রু হিসেবেই পাশাপাশি অবস্থান করছে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধসহ ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে এ পর্যন্ত চারবার পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ হয়ে গেছে। এখন একে অপরের দিকে পারমাণবিক অস্ত্র তাক করে আছে বলেই অনেকে মনে করেন। জন্মগত বৈরী সম্পর্কের পরম্পরায় গত শতকের ষাটের দশকের শুরু থেকেই পার্বত্য চট্টগ্রামের গহিন জঙ্গলে মিজোরাম, নাগাল্যান্ডের সশস্ত্র বিদ্রোহীদের জন্য পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা ক্যাম্প প্রতিষ্ঠা থেকে প্রশিক্ষণসহ সব রকমের সমর্থন ও সহযোগিতা প্রদানের ব্যবস্থা করে।

শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন বিতর্কের শেষ নেই, ভ্রাতৃঘাতী সংঘর্ষ বেড়েই চলেছে

২ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক পার্বত্য শান্তিচুক্তির ২২তম বর্ষপূর্তি ছিল। প্রায় দুই যুগেরও বেশি সময়ের সংঘাত তথা রক্তের হোলিখেলা বন্ধে ১৯৯৭ সালের এই দিনে সরকারের সঙ্গে জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যা পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি নামে অভিহিত। চুক্তির পর ইনসার্জেন্সি বন্ধ হয়েছে। এরপর কেটে গেছে একুশটি বছর। কিন্তু এ চুক্তি ও এর বাস্তবায়ন নিয়ে বিতর্কের যেমন শেষ হয়নি, তেমনি পাহাড়ী স্থানীয় রাজনৈতিক দলের ব্যানারে ভ্রাতৃঘাতী সংঘর্ষ দিনের পর দিন যেন বেড়েই চলেছে। জেএসএস এবং এর বিরোধী ইউপিডিএফ (ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট) এর মধ্যে দু’গ্রুপ করে এখন চার গ্রুপ হয়ে যে সংঘাত বিশেষ করে চাঁদাবাজির ভাগবাটোয়ারা ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে জটিল যে রূপ বর্তমানে দৃশ্যমান তা শান্তিচুক্তির মূল লক্ষ্যকে ভুলুণ্ঠিত করছে। সবুজের পাহাড় প্রায়শ রক্তে রঞ্জিত হচ্ছে। ঝরে পড়ছে তরতাজা প্রাণ। ঝরে যাওয়া তালিকায় প্রতিনিয়ত স্থান করে নিচ্ছে পাহাড়ী-বাঙালী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সদস্যরা। সর্বশেষ রবিবার রাঙ্গামাটিতে জেএসএসের চাঁদাবাজির চীফ কালেক্টরখ্যাত বিক্রম চাকমা প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীদের গুলিতে নির্মমভাবে প্রাণ হারিয়েছে।

বুধবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৯

পার্বত্য অঞ্চলে ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি ছাড়া সমস্যার সমাধান হবে না


পার্বত্য অঞ্চলে ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি না হলে সমস্যার সমাধান হবে না বলে মনে করেন বিশিষ্টজনেরা। তারা বলছেন, পার্বত্য চুক্তির মূল বিষয়বস্তু ভূমির মালিকানা। এই একটিমাত্র বিষয় বাস্তবায়ন করলে আর কিছুই করতে হবে না। এমনিতেই চুক্তি বাস্তবায়িত হয়ে যাবে। বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে এএলআরডি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম কমিশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘পার্বত্য চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন বনাম পার্বত্য চট্ট্রগ্রামের বর্তমান পরিস্থিতি’ শীর্ষক জাতীয় সংলাপে বক্তারা এ সব কথা বলেন। সভায় ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও আদিবাসীবিষয়ক সংসদীয় ককাসের সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, আমি শান্তিচুক্তি পূর্ণবাস্তবায়নের জন্য আশা জিইয়ে রাখছি। কিন্তু পার্বত্য অঞ্চলের এখনকার যে পরিস্থিতি এবং কিছুদিনের পত্রিকা দেখে আমার মনে হয়েছে আমরা যেন জিয়া-এরশাদের আমলে ফিরে গেছি। সেদিন যে দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সামরিক সমাধানের প্রচেষ্টা নেওয়া হয়েছিলো তেমনি মনে হচ্ছে এখনও সেই সামরিক সমাধানের পক্ষেই আমরা এগুচ্ছি। শুধু এগুচ্ছি না, আমরা এ ব্যপারে অগ্রসর হচ্ছি।

মঙ্গলবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৯

২২বছরেও পাহাড়ে শান্তি ফেরাতে ভূমিকা রাখেনি সন্তু লারমা

পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির ২২ বছরেও পাহাড়ে শান্তি ফেরাতে সন্তু লারমা ভূমিকা রাখেননি বলে অভিযোগ করেছেন রাঙামাটি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার। তিনি বলেন, ১৯৯৭ সালে শান্তি-সম্প্রীতি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পার্বত্যাঞ্চলের সাধারণ মানুষের পক্ষে চুক্তিস্বাক্ষর করেছিলেন তিনি। কিন্তু সে প্রতিশ্রুতির লেশমাত্রও দেখেননি পার্বত্যাঞ্চলের মানুষ। তারপরও সরকারের পক্ষ থেকে পার্বত্য চুক্তির ৭২টি ধারার সিংহভাগই বাস্তবায়ন করা হয়েছে। দেওয়া হয়েছে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের জাতিগত পরিচয় ও বিশেষ সুবিধা। এরপরও পার্বত্য চুক্তি নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে সন্তু লারমার অভিযোগের শেষ নেই। গতকাল দুপুরে রাঙামাটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট চত্বরে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির ২২ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

পার্বত্য শান্তি চুক্তির ২২ বছর পূর্তিতে আমাদের প্রত্যাশা ও মূল্যায়ণ

সুজলা, সুফলা, শস্য শ্যামলা নদী মাতৃক দেশ আমাদের বাংলাদেশ। এই বাংলা মায়ের ৫০৯৩ বর্গমাইল এলাকা জুড়ে এক অভিন্ন এবং অখন্ড- অঞ্চল তথা পাহাড়ের রাণী খ্যাত পার্বত্য চট্টগ্রাম। খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান এই তিন পার্বত্য জেলা নিয়ে বাংলা মায়ের এক-দশমাংশ এলাকা জুড়ে প্রাকৃতিক সুন্দর্যের লীলাভূমি, সুউচ্চ পাহাড়, ঝর্নার কলকল ধ্বনি, চেঙ্গী, মাইনী, কাচালং, মাতামুহুরী, রাইনখিয়াং, কর্ণফুলী ও সাঙ্গু নদীর উর্বর সমভূমি, পাহাড়ী উপত্যকা, সীমাহীন বিস্তৃত নীলাকাশ, সবুজের গালিচা, বনভূমির নিস্তদ্ধতা, বিল, ঝিল, হৃদ নদীতে দেশি-বিদেশী পাখপাখালীর উপস্থিতি, পাহাড়-বন বনানীতে বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণীর অবস্থান পুরো পার্বত্য ভূমির পরিবেশ কে করে তুলেছে মনোমুগ্ধকর এক অনাবিল ভাল লাগায়, যা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না, শুধুমাত্র উপলদ্ধিই করা যায়। উত্তরে খাগড়াছড়ি মাঝখানে রাঙ্গামাটি এবং দক্ষিনে বান্দরবান এই ৩টি পার্বত্য জেলার সম্বন্বয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম, এবং পশ্চিমে ভারতের ত্রিপুরা উত্তর ও পূর্বে মিজুরাম, এবং দক্ষিনে মায়ানমারের আরাকান প্রদেশ।

শান্তি চুক্তির ২২ বছর: আসেনি শান্তি বেড়েছে অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি



বাংলাদেশের পার্বত্যাঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আঞ্চলিক দল জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সাথে ২২ বছর আগে আজকের দিনে শান্তি চুক্তি সই করেছিল শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীল তৎকালীন সরকার। কিন্তু আজও সেই কাঙ্ক্ষিত শান্তি আসেনি পাহাড়ে। ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর এ শান্তি চুক্তি সই হবার পর গত ২২ বছরে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান- এ তিন পার্বত্য জেলায় নানামুখী সংঘাতে কয়েকশ’ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল রোববারেও রাঙ্গামাটির মগবানে বিক্রম চাকমা নামে জনসংহতি সমিতির এক সদস্য প্রতিপক্ষের গুলিতে নিহত হয়েছেন। পার্বত্য শান্তিচুক্তি সম্পন্ন হবার বর্ষপুর্তি উপলক্ষে প্রদত্ত এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নে সকলের সহযোগিতা কামনা করে বলেছেন, তার সরকার পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের সর্বত্র শান্তি-শৃংখলা বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর।

সোমবার, ২ ডিসেম্বর, ২০১৯

পার্বত্য চুক্তি হয়েছিল লিখিত-অলিখিতভাবে: সন্তু লারমা



পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা) বলেছেন, চুক্তি হয়েছিল দু’ভাবে। একটি লিখিতভাবে অন্যটি অলিখিত ভাবে। এই অলিখিত চুক্তির মধ্যে অন্যতম হল পাহাড়ের বিদ্যমান আইনের লঙ্ঘন করে জিয়াউর রহমান সরকারের আমলে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় যে নিরীহ বাঙালিদেরকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল তাদেরকে সম্মানজনকভাবে পার্বত্য চট্টগ্রামের বাইরে পুনর্বাসন করা। কিন্তু সেই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টাও এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। সোমবার (২ ডিসেম্বর) পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ২২ তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে ‘‘জাতীয় নাগরিক” উদ্যোগে রাজধানীর উইমেন্স ভলান্টারি এসোসিয়েশন্স মিলায়তনে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

শান্তিচুক্তির ২২ বছরেও ফেরেনি পাহাড়ের উপজাতি -বাঙালিদের আস্থা ও বিশ্বাস

পাহাড়ে উপজাতি ৪ সশস্ত্র সংগঠনের কাছে জিম্মি পাহাড়ি জনপদ, এ ৪ সশস্ত্র সংগঠন বছরে ৪০০ কোটি টাকা চাঁদা আদায়, অতিষ্ঠ শান্তিপ্রিয় মানুষ। ব্যপক চাঁদাবাজি ও ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়ায় এই অঞ্চলের মানুষের মধ্যে আস্থা ও বিশ্বাস বাড়েনি। দীর্ঘ দুই যুগ ধরে পার্বত্য চট্টগ্রামে স্বায়ত্ত শাসনের দাবিতে আন্দোলন করেছে তৎকালিন গেরিলা সংগঠন শান্তিবাহিনী। বিভিন্ন সময় সরকারের পক্ষ থেকে নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও সুফল পাওয়া যায়নি। অবশেষে ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর তৎকালিন আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জনসংহতি সমিতির পার্বত্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি স্বাক্ষরের পর অর্থনীতিতে গতি আসলেও চাঁদাবাজি ও রাজনৈতিক হত্যাসহ ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়ায় এই অঞ্চলের মানুষের মধ্যে আস্থা ও বিশ্বাস বাড়েনি। পার্বত্য শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের ২২ বছর পার হলেও পাহাড়ে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি ও বাঙালির মধ্যে আস্থা ও বিশ্বাস এখনো ফিরেনি। বরঞ্চ উভয় জনগোষ্ঠীর মাঝে বেড়েছে দূরত্ব ও সহিংসতা। চুক্তি স্বাক্ষরকারী সংগঠন জনসংহতি সমিতি ভূমি কমিশন কার্যকরসহ মৌলিক কিছু বিষয় বাস্তবায়ন না হওয়ায় জন্য সরকারকে দায়ী করছে। অন্যদিকে পাহাড়ি অন্য সংগঠনগুলোর মতে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির কারণে এই সমস্যার এখনো সমাধান হচ্ছে না। পাহাড়ে বসবাসরত সবাই ভেবেছিল চুক্তি ফলে পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি ফিরবে। পাহাড়ি-বাঙালির মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে উঠাসহ ভাতৃঘাতি সংঘাত বন্ধ হবে। চুক্তির এতো বছর পরও তাদের সে আশা পূরণ হয়নি।

গুচ্ছগ্রামে ৮১২ বাঙালি পরিবার, নিজ ভূমিতে ফিরতে পারেনি ৩৩ বছরেও

খাগড়াছড়ির গুচ্ছগ্রামে ৮১২ বাঙালি পরিবার, নিজ ভূমিতে ফিরতে পারেনি ৩৩ বছরেও পুনর্বাসনে মন্ত্রণালয় নির্দেশনা দিলেও প্রশাসন। খাগড়াছড়ির দীঘিনালার ৫নং বাবুছড়া ইউনিয়নের একটি টিলায় ১৯৮১ সালে ৮১২ ভূমিহীন বাঙালি পরিবারকে পুনর্বাসন করেছিল সরকার। মুন্সীগঞ্জের নদীভাঙনে ভিটে-মাটি হারানো সোনা মিয়ার নামে ওই টিলার নাম হয় সোনা মিয়ার টিলা। বসতি স্থাপনের পাঁচ বছর পর ১৯৮৬ সালে খাগড়াছড়িতে পাহাড়ি সশস্ত্র বিদ্রোহীদের কারণে পরিস্থিতির অবনতি হলে ওই টিলা থেকে বাঙালি পরিবারগুলোকে সরিয়ে নেয় প্রশাসন। তাদের স্থান হয় বিভিন্ন গুচ্ছগ্রামে। তখন তাদের বলা হয়েছিল, তিন মাস পর পরিস্থিতির উন্নতি হলে আবার সেই টিলায় ফিরিয়ে নেয়া হবে। এরপর ৩৩ বছর কেটে গেলেও তারা সেই টিলায় ফিরতে পারেননি।

পার্বত্য শান্তিচুক্তির ২২ বছর: উপজাতি ৪ সশস্ত্র সংগঠনের কাছে জিম্মি পাহাড়ি জনপদ

পাহাড়ে উপজাতি ৪ সশস্ত্র সংগঠন বছরে ৪০০ কোটি টাকা চাঁদা আদায়, অতিষ্ঠ শান্তিপ্রিয় মানুষ, চুক্তি বাস্তবায়ন না হওয়ায় সরকারকে দোষারোপ সন্তু লারমার। আজ ২ ডিসেম্বর। ২২ বছর আগে আজকের এই দিনে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় সশস্ত্র সংগ্রামে লিপ্ত থাকা সংগঠন জনসংহতি সমিতির (জেএসএস-মূল) সঙ্গে সরকারের শান্তিচুক্তি হয়। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী পাহাড়িদের সশস্ত্র সংগ্রামের পথ ছেড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করার কথা। অথচ চুক্তির ২২ বছর পরও পাহাড়ে শান্তি ফেরেনি। উল্টো আরও তিনটি সশস্ত্র আঞ্চলিক দলের উত্থান ঘটেছে। এমন পরিস্থিতিতে চার সংগঠনের কাছে পুরো পার্বত্য অঞ্চল জিম্মি হয়ে পড়েছে। পাহাড়ে বসবাসকারী শান্তিপ্রিয় মানুষকে জিম্মি করে চাঁদাবাজি, আধিপত্য এবং কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠায় সংগঠনগুলোর মধ্যে খুনোখুনি চলছেই। চাঁদার টাকা ভাগাভাগি নিয়ে সর্বশেষ রোববার রাঙ্গামাটিতে গুলি করে হত্যা করা হয় জেএসএসের (মূল) আঞ্চলিক চিফ কালেক্টর বিক্রম চাকমাকে।

শান্তিচুক্তির ২২ বছর: পাহাড়ে গুম খুন চাঁদাবাজি বন্ধ হচ্ছে না কেন?



পার্বত্য চট্টগ্রামে গুম-খুন-অপহরণ চাঁদাবাজি প্রতিনিয়ত বেড়েই চলছে। সেখানে বিবদমান চারটি সশস্ত্র গ্রুপের মধ্যকার আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে নিজেরাও যেমন হতাহত হচ্ছে, পাশাপাশি তাদের সন্ত্রাসের কারণে দিশেহারা হয়ে পড়ছে সাধারণ মানুষ। গুম-খুনের শিকার হচ্ছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরাও, অনেকেই বাধ্য হয়ে এলাকা ছাড়ছেন। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী থেকে শুরু করে খোদ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা পর্যন্ত সশস্ত্র হামলার শিকার হয়ে আহত-নিহত হচ্ছেন। পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষার সাথে নিয়োজিতরা কোনো ক্রমেই এর লাগাম টেনে ধরতে পারছেন না। অন্যদিকে শান্তি চুক্তির শর্ত অনুযায়ী সেনাবাহিনীর কার্যক্রমকে সীমিত পর্যায়ে রাখা এবং বিপুল সংখ্যক ক্যাম্প প্রত্যাহার করার কারণে তারাও এক্ষেত্রে যথাযথ ভূমিকা রাখার সুযোগ পাচ্ছে না। ফলে বাধ্য হয়ে চুক্তির ২২ বছরের মাথায় এসে পার্বত্য চট্টগ্রামের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্রমাবনতি নিয়ে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে। পরিস্থিতির গভীরতা অনুধাবনের জন্য সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনা নিচে তুলে ধরছি।

আজ শান্তিচুক্তির ২২ বছর পূর্তি


পাহাড়ে শান্তি ফিরে আসলেও ভুমি জটিলতায় নিজভূমে পরবাসী পাহাড়ের বাঙালীরা: ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বরে করা পার্বত্য শান্তি চুক্তির ২২ বছর পূর্তি হলো আজ। সিএইচটি রিসার্চ ফাউন্ডেশনের এক গবেষণায় দেখা গেছে, শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের পর ১৯৯৮ সালে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন শান্তিবাহিনী চার দফায় আত্মসমর্পন করে। এরমধ্যে- ♦ ১১ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৮ তারিখে ৭৩৯জন আত্মসমর্পন করেন সমর্পন করেন। তাদের সমর্পনকৃত অস্ত্রের মধ্যে ১৪টি টি-৫৬ রাইফেল, এসএমজি টি-৫৬ ১২টি, এলএমজি ৭টি, জি থ্রি রাইফেল ১৩১টি, এসএমসি ৩১টি, ৩০৩ ব্রেন এলএমজি ১৪টি, মোর টি-৬৩ ৩টি, মোর(ব্রিটিশ) ৪টি, থ্রি নট থ্রি রাইফেল ৮১টি, পিস্তল/রিভলভার ৫টি, সিএম স্ট্যান্ড ২৪টি, ২ মোর ১টি, ৪০ এমএম আরএল ১টি, পাইপ গান ২৬টি, এসএলআর ৮৩, স্মল ব্রোক রাইফেল ১টি। মোট ৪৩৮টি। ♦ ১৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৮ তারিখে বাঘাইহাট স্কুলে ৫৪২জন, তাদের জমা দেয়া অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে টি-৫৬ রাইফেল ১৩টি, এসএমজি টি-৫৬ ৯টি, এলএমজি ৬টি, জি থ্রি রাইফেল ৩২টি, এসএমসি ১৪টি, মোর টি-৬৩ ১টি, থ্রি নট থ্রি রাইফেল ১০০টি, পিস্তল/রিভলভার ৪টি, পাইপ গান ৪টি, এসএলআর ৩৬। মোট ২১৯টি।

রবিবার, ১ ডিসেম্বর, ২০১৯

শান্তি চুক্তির ২২ বছরে আমাদের যতসব প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি



শুরুর কথা : বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অবস্থিত পার্বত্য চট্টগ্রাম প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ এক অপার সম্ভাবনাময় অঞ্চল। সুপ্রাচীনকাল থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম ঐতিহাসিক এবং ভৌগোলিক অবস্থানজনিত কারণে বাংলাদেশের একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ ভূখণ্ড হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। আজ থেকে প্রায় ১৫৬ বছর আগে, ১৮৬০ সালে, ব্রিটিশ-ভারতের সরকার তৎকালীন চট্টগ্রাম জেলার পূর্ব অংশের পার্বত্য অঞ্চলকে আলাদা একটি প্রশাসনিক ইউনিট তথা একটি নতুন জেলার সৃষ্টি করে এবং নতুন জেলার নাম দেওয়া হয় ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম’। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান ও ভারত নামে দুটি রাষ্ট্র সৃষ্টি হয়, তখন পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলাটি পাকিস্তান তথা পূর্ব পাকিস্তানের অংশ হয়। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে সমগ্র পূর্ব পাকিস্তান বাংলাদেশ হয়ে যায়। অতএব, পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলাও বাংলাদেশের অংশ হিসেবে অব্যাহত থাকে। স্বাধীনতার অব্যবহিত পরে দেশ যখন দ্রুত পুনর্গঠনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল, তখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল জনগণের ঐক্যবদ্ধতা। 

শুক্রবার, ২৯ নভেম্বর, ২০১৯

শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নে প্রধান অন্তরায় অবৈধ অস্ত্র



পার্বত্য শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নে প্রধান অন্তরায় অবৈধ অস্ত্র এসএমজি (সাব-মেশিন গান), একে-৪৭ কিংবা একে-২২ রাইফেল। এসব সাধারণত কোনো দেশের সামরিক বাহিনীরা ব্যবহার করে থাকে। অথচ দেশের পার্বত্য অঞ্চলে এমন ধরনের বিপুল সংখ্যক অত্যাধুনিক মারণাস্ত্র ব্যবহার করছে উপজাতীয় সন্ত্রাসীরা। পাহাড়ের নিরীহ বাঙালি ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকার চাঁদাবাজি করতে এবং ভূমি দখলসহ পার্বত্য অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের রাখতে এসব অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার ও মজুদ করছে পার্বত্য অঞ্চলের চারটি আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠন। সরেজমিনে গত রোববার থেকে বুধবার পর্যন্ত চার দিন পার্বত্য অঞ্চল ঘুরে বিভিন্ন পর্যায়ে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। পার্বত্য অঞ্চলে কাজ করা গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলছে বর্তমানে পার্বত্য অঞ্চলভিত্তিক চারটি উপজাতীয় সংগঠনের হাতে বর্তমানে প্রায় ৪ হাজারের মতো আগ্নেয়াস্ত্র মজুদ রয়েছে। সশস্ত্র ওই চার সংগঠন হচ্ছে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ), ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক), জনসংহতি সমিতি (জেএসএস-মূল/সন্তু লারমা) ও জেএসএস (সংস্কার)।

বৃহস্পতিবার, ২৮ নভেম্বর, ২০১৯

অসাংবিধানিক ধারা পরিবর্তন ও সংশোধন ব্যতিত শান্তিচুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন অসম্ভব


পার্বত্য চট্টগ্রাম ইস্যু নিয়ে যে কোন কথা বলতে গেলেই ঘুরে ফিরে যে বিষয়টি চলে আসে তা হলো “শান্তিচুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন”। আমাদের দেশের বড় বড় স্বঘোষিত বুদ্ধিজীবী আর বোদ্ধাগণ উপজাতি নেতা সন্তু লারমা ও তার সমর্থকদের সাথে সুর মিলিয়ে শান্তিচুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন না হওয়া নিয়ে একতরফাভাবে বাংলাদেশ সরকারকে দোষারোপ করে থাকেন। কিন্তু আমার মনে হয় যে, ঐ সমস্ত বুদ্ধিজীবী আর বোদ্ধারা হয়তো শান্তিচুক্তি সম্পর্কে ততটা ওয়াকিবহাল নয়। তাদের কথাবার্তা শুনে মনের মধ্যে সন্দেহ উঁকি দেয় এই ভেবে যে, তারা কি আদৌ উনাদের নিজেদের মতামত ব্যক্ত করেন নাকি কারো শেখানো অথবা লিখে দেয়া বুলিগুলো তোতা পাখির মত আওড়ে যান। ঐ সমস্ত শিক্ষিত বুদ্ধিজীবী আর বোদ্ধাদের উচিৎ কোন কথা বা মতামত ব্যক্ত করার আগে বিষয়বস্তু সম্পর্কে নিরপেক্ষভাবে জানা ও বোঝা।

বুধবার, ২৭ নভেম্বর, ২০১৯

শান্তিচুক্তির ২২ বর্ষ পূর্তি পালনে বিরত জেএসএস ও ইউপিডিএফ

ঐতিহাসিক পার্বত্যচুক্তির বাইশ বছর পূর্তি হতে যাচ্ছে ২ ডিসেম্বর। পূর্তি উপলক্ষে নেয়া হয়েছে নানা কর্মসূচি। মেলা, শোভাযাত্রা, কনসার্টসহ নানা আয়োজনের কথাও রয়েছে। তবে ১৯৯৭ সনের পর এই প্রথমবারের মতো চুক্তির পক্ষে কোন কর্মসূচি পালন থেকে বিরত থাকছে পাহাড়ের আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল জনসংহতি সমিতি (জেএসএস)। পাশাপাশি একই সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাহাড়ের ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)ও। বুধবার (২৭ নভেম্বর) কেন্দ্রীয় জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) এর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কে এস মং সাংবাদিকদের বলেছেন- গত এক বছর ধরে তাদের উপর রাজনৈতিক দমন পীড়ন চলছে। এই অবস্থায় নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে শান্তি চুক্তির কর্মসূচিতে জেএসএস অংশ নিচ্ছেনা এবং তাদের পক্ষ থেকে জেলার কোথাও কোন অনুষ্ঠানের কর্মসূচি নেই।

সোমবার, ২১ অক্টোবর, ২০১৯

পাহাড়ের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার গাইড লাইন

খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান জেলা হঠাৎ করেই অশান্ত হয়ে পড়ছে। দু’দিন পর পর সেখানে অনাকাক্সিক্ষতভাবে রক্ত ঝরছে। খুনখারাবির পাশাপাশি চাঁদাবাজি, অস্ত্রবাজিসহ নানা রকম সন্ত্রাসী কার্যক্রমের শিকার হচ্ছে পার্বত্যবাসী। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিভিন্ন জাতীয় এবং আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, এমনকি খোদ সেনাবাহিনীর সদস্যরাও সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়ে হতাহত হচ্ছেন। ফলে ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে পার্বত্য চট্টগ্রাম স্থানীয় জনসাধারণের মনে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এই অবনতি। বিষয়টি যে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলকেও ভাবিয়ে তুলেছে, তার প্রমাণ পাওয়া গেল দু’দিব্যাপী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এমপি’র সাম্প্রতিক পার্বত্য চট্টগ্রাম সফরের মধ্য দিয়ে। গত ১৬ অক্টোবর এবং ১৭ অক্টোবর সফর করে রাঙ্গামাটিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রাণালয়ের আয়োজনে তিন পার্বত্য জেলার বিশেষ আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত দুটি সভা করেছেন তিনি। একটি সভা তিনি করেছেন তিন পার্বত্য জেলার ডিসি, এসপিসহ প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নিয়ে। অপর সভাটি ছিল প্রশাসনিক এবং স্থানীয় প্রতিনিধিসহ অন্যান্যদের নিয়ে।

সোমবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

পাহাড়ে শরণার্থী বিষয়ক সংখ্যাভিত্তিক বিভ্রান্তি এবং সুদূরপ্রসারী প্রভাব

আশির দশকে সাধারণ মানুষের প্রতি শান্তিবাহিনীর নির্মমতার কারণে বিভিন্ন সময়ে বিপুল সংখ্যক পাহাড়ী-বাঙ্গালী নিজ ভূমি থেকে স্থানান্তরিত হতে বাধ্য হয়েছিলো। পরবর্তীতে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পূর্বে ও পরে বিভিন্ন সময়ে সাধারণ উপজাতি ও বাঙ্গালীরা তাদের শরণার্থী জীবন ছেড়ে সরকারের দেয়া সুবিধাদি নিয়ে স্বাভাবিক দৈনন্দিন জীবনের পথ বেছে নিয়েছিলো। শরণার্থীদের জন্য সরকার ঘোষিত বিশেষ সুবিধাদির প্রতি আকর্ষিত হয়ে এবং বিভিন্ন আঞ্চলিক রাজনীতির সমীকরণে শরণার্থীদের মধ্যেই সংখ্যা বিভেদ ইস্যু ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি করে। যদিও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার সুদূরপ্রসারী এই সমস্যার কথা বিবেচনা করে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করেছিলেন, যা “ পার্বত্য চট্টগ্রাম ভারত প্রত্যাগত উপজাতীয় শরণার্থী প্রত্যাবাসন ও পূনর্বাসন এবং আভ্যন্তরীন উদ্বাস্তু নির্দিষ্টকরণ ও পূনর্বাসন সংক্রান্ত টাস্কফোর্স” নামে পরিচিত। বিশেষ এই সংস্থাটির দীর্ঘ নাম দেখলেই বোঝা যায় সরকার সুচিন্তিতভাবেই শরণার্থী সংক্রান্ত সম্ভাব্য সকল সমস্যা অনুধাবন করতে পেরে প্রতিটি বিষয় অন্তর্ভূক্ত করে এই টাস্কফোর্স গঠন করেছিলো।

রবিবার, ১২ মে, ২০১৯

পাহাড়ের নিরাপত্তা বিন্যাসে পুনর্ভাবনা জরুরি


মেহেদী হাসান পলাশ : পার্বত্য চট্টগ্রাম হঠাৎ করেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। একের পর এক আলোচিত ও শীর্ষ খবর হওয়ার মতো ঘটনার জন্ম হচ্ছে পার্বত্য চট্টগ্রামে। এ প্রসঙ্গে জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের সদস্য বাসন্তী চাকমার বক্তব্য, বাঘাইছড়িতে নির্বাচনী কর্মকর্তাদের উপর উপজাতীয় সন্ত্রাসীদের হামলা ও ৮ জনকে হত্যা, বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে গোলাগুলিতে এক উপজাতীয় সন্ত্রাসীর মৃত্যু এবং ঘটনাস্থল থেকে ৭টি এসএমজি ও ৪৩৬ রাউন্ড গুলি উদ্ধার, রাজস্থলীতে মগ লিবারেশন পার্টির সাথে স্থানীয় উপজাতীয় আঞ্চলিক সংগঠনের গুলিবিনিময়ে ৭ জন নিহত হওয়ার খবর (যদিও ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে হতাহতের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি), সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামে বড় ধরনের হামলার হুমকি, জেএসএস ও ইউপিডিএফ (মূল) শীর্ষ নেতার এক সাথে দেশের বাইরে অবস্থান প্রভৃতি ঘটনার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা যেতে পারে। এ সবের পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তা বাহিনী পার্বত্য চট্টগ্রামে সন্ত্রাস নির্মূলে চিরুনী অভিযান শুরু করেছে। এ অভিযানে এপ্রিল মাসের ২৭ তারিখ পর্যন্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোট ১৬টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে। এরমধ্যে ৮টি এসএমজি। এছাড়াও একই সময়ে প্রায় সাড়ে ৪০০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে।