মঙ্গলবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

উপজাতি পুরুষ কর্তৃক ধর্ষন যেন পাপ মোচনের শামিল

উপজাতি পুরুষ কর্তৃক ধর্ষন যেন পাপ মোচনের শামিল।নারী নির্যাতন একটি সামাজিক অপরাধ। সারা বিশ্বেই এ অপরাধ সংগঠিত হচ্ছে। রাঙ্গামাটি, বান্দরবান আর খাগড়াছড়ি জেলা নিয়ে গঠিত পার্বত্য চট্টগ্রামও এর ব্যতিক্রম নয়। এখানেও নারী নির্যাতনের মত ঘৃন্য অপরাধ সংগঠিত হয়। ব্যক্তিগতভাবে নারী নির্যাতনকে আমার কাছে খুবই জঘন্য একটি অপরাধ মনে হয়। কিন্তু অদ্ভুত বিষয় হচ্ছে পার্বত্য চট্টগ্রামে উপজাতিয় নারীরা খুন বা নির্যাতনের শিকার হলে এ বিষয়ে প্রতিবাদ, সভা, মানববন্ধন, শুশীল সমাজের মায়াকান্না, মিডিয়ার অপপ্রচার, মানবাধিকার সংস্থাগুলির তোড়জোড় ইত্যাদির অন্ত থাকেনা। এ জন্য ধন্যবাদ জানাই তাদেরকে। কিন্তু বাঙ্গালি অথবা ইসলাম ধর্মে রুপান্তরিত উপজাতি নারীরা খুন বা নির্যাতিত হলে মিডিয়াতো দূরের কথা আমাদের শুশীল সমাজ এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলোও কোন কথা বলেনা। বরংচ উপজাতি নারী খুন বা ধর্ষিত হলে বাঙ্গালীদের অনর্থক দায়ী করে সাম্প্রদায়িক বিবাদ সৃষ্টির অপপ্রয়াস চালানো হয়। এখানে বলাবাহুল্য, উপজাতী নারীরা উপজাতী পুরুষ কর্তৃক নির্যাতিত হলে কোন সংগঠন তার প্রতিবাদ করে না। এধরনের ঘটনা মানবাধিকার সংস্থাগুলো তাদের পরিসংখ্যানে তালিকাভূক্ত করে কিনা সে বিষয়েও যথেষ্ট সন্দেহ আছে। উপজাতী সংগঠনগুলির ভাবমূর্তি ও পরিস্থিতি দেখলে মনে হয় যেন, তাদের দৃষ্টিতে উপজাতী পুরুষ কর্তৃক ধর্ষন করলে তা ধর্ষন নয়, বরং পাপ মোচন।

এরকম শত শত ঘটনার মধ্য থেকে কিছু উদাহরণ দেয়া যাক। গত ২৯ মে ২০১৬ তারিখে রাঙ্গামাটি জেলার বিলাইছড়ি উপজেলাতে আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল জেএসএস সমর্থিত পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের (পিসিপি) অর্থ সম্পাদক সুনীতিময় চাকমা এর নেতৃত্বে প্রায় ২০ জনের একটি দল আয়না চাকমা নামক এক কিশোরীকে অপহরণ করে। এরপর গহিন জঙ্গলে নিয়ে আয়না চাকমাকে যৌন নির্যাতন করে তারা। কিন্তু এ বিষয়ে পাহাড়ি সংগঠনগুলি ছিল নীরব। 

খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালা উপজেলার ক্ষেত্রলাল ত্রিপুরার মেয়ে দীপা ত্রিপুরাকে গত ১২ এপ্রিল ২০১৫ তারিখে অপহরণ করে আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল ইউপিডিএফ সমর্থিত পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের (পিসিপি) কর্মীরা। অপহরণের পর একটি জুম ঘরে আটক করে দীপা ত্রিপুরাকে পালাক্রমে গণধর্ষণ করে পিসিপি’র এসব সন্ত্রাসীরা। এসময় পুরো গণ-ধর্ষণের দৃশ্য মোবাইলে ভিডিও করে তারা।
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ তারিখে বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ১৩ জন কিশোরীকে একটি আশ্রমে রেখে বিনা খরচে লেখা পড়ার কথা বলে রাঙ্গামাটি জেলার কাপ্তাই উপজেলার মিতিংঙ্গ্যা ছড়ি বৌদ্ধ বিহারে নিয়ে যায় উসিরি নামক এক বৌদ্ধ ভিক্ষু। পরে ঐ ভিক্ষু’সহ সংঘবদ্ধ একটি চক্র ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার কথা বলে কিশোরীদের মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডু শহরতলীতে পাচার করে। সেখানে নেইছাদং এলাকায় একটি বৌদ্ধ আশ্রমে তাদের রাখা হয়। পরবর্তীতে মিয়ানমার থেকে উদ্ধারকৃত পাচার হওয়া ঐসকল কিশোরীরা পুলিশী জিজ্ঞাসাবাদে জানায় যে, প্রতিদিন বৌদ্ধ ভিক্ষু উসিরি তাদেরকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করতো। অনেক সময় দু’কিশোরীকে উসরির দু’পাশে শুইয়ে থাকতে হতো। সে যখন যাকে ডাকত তারা তার শয্যাসঙ্গী হতে বাধ্য হত। অন্যথায় মারধরের করা হত। 

২০১২ সালের ১৩ জুন খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙ্গা উপজেলার দক্ষিণ কুমিল্লা টিলা এলাকায় মো: আব্দুল মান্নানের মেয়ে কুলসুম আকতার (১২) নামে এক কিশোরী চারজন উপজাতি কর্তৃক ধর্ষনের শিকার হয়। এ ঘটনার এক মাসের মাথায় ২৩ জুলাই মহালছড়ি উপজেলার মাইসছড়ি এলাকায় শাহদা বেগম (৫৫) নামে এক বাঙ্গালী গৃহবধুকে পাহাড়ী যুবক কর্তৃক ধর্ষন করা হয়। একই বছর ৯ অক্টোবর মহালছড়ির শ্মশানখোলা এলাকার বাসিন্দা শামছুন্নাহার (৩০) নামে একজনকে ধর্ষণ করে উপজাতিরা। এসময় উপজাতি যুবকের দা‘র আঘাতে শামছুন্নাহারের মাথায় মারাত্বক জখম হয়। ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারির দিকে ভালোবেসে এক বাঙালী ছেলেকে বিয়ে করার অপরাধে খাগড়াছড়ির গুইমারার উমাচিং মারমা (১৮) নামে এক মারমা তরুণী ও তার পরিবারকে নির্যাতন ভোগসহ মোটা অঙ্কের চাঁদা দিতে হয়। এভাবে পার্বত্য চট্টগ্রামে বাঙালী মুসলিম ছেলেকে ভালোবেসে মাটিরাঙার সোনাবি চাকমা, রাঙামাটির কুতুকছড়িতে রিনা ত্রিপুরা, রামগড়ের মণিকা ত্রিপুরা, নানিয়ারচরের জ্যোৎস্না চাকমা ও আয়েশা সিদ্দিকা ওরফে মিনুরওজা মারমাসহ এরকম আরো অসংখ্য পাহাড়ী মেয়েকে অপহরণ, গণধর্ষণ, হত্যাসহ বিভিন্ন নারকীয় অভিজ্ঞতার শিকার হতে হয়েছে। যার সর্বশেষ উদাহরণ হল গত ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭ তারিখে মাটিরাংগার বাইল্যাছড়ি এলাকা হতে চলন্ত বাস থেকে স্বামীর সামনে থেকে নয়ন ত্রিপুরা ওরফে ফাতেমা বেগমকে উপজাতি সন্ত্রাসী কর্তৃক অপহরণ।

পাহাড়ী তরুণীদের নিজ জাতি-গোষ্ঠীর লোকদের হাতে এরুপ নির্বিচারে গণধর্ষণের শিকার হওয়া নিয়ে একটি গবেষণাধর্মী উপন্যাস বের করেন লেখিকা রোকেয়া লিটা। ‘ডুমুরের ফুল’ নামে আলোড়ন সৃষ্টিকারী এ বইটি বের করলে উপজাতি সংগঠন কর্তৃক তাকে মেরে ফেলার হুমকিও দেয়া হয়।

পার্বত্য এলাকায় অপসংস্কৃতির বেড়াজালে বন্দি উপজাতী সন্ত্রাসীদের ভোগ্য পন্যের শিকার বাঙ্গালী এবং ধর্মান্তরিত এসব নারী নির্যাতনের কথা কতিপয় মিডিয়া এবং শুশীল সমাজের মুখে প্রতিবাদ বাক্য হিসেবে কোনদিনও শোনা যায় না। এখানেই বোঝা যায় যে পার্বত্য বাংগালীদের পক্ষে কথা বলায় ঐসব মিডিয়া এবং শুশীল ব্যক্তিবর্গের কোন স্বার্থ নাই। উপজাতিদের পক্ষে কথা বললেতো তাদের পকেট লালে লাল সাথে মাস্তি একদম ফ্রি!

পার্বত্য চট্টগ্রামে উপজাতি সন্ত্রাসী কর্তৃক বাঙ্গালী গণহত্যা সমূহ:

·      পার্বত্য চট্টগ্রামে উপজাতি সন্ত্রাসী কর্তৃক বাঙ্গালী গণহত্যা

·     পার্বত্য চট্টগ্রামে উপজাতি সন্ত্রাসী কর্তৃক সেনাহত্যার ইতিহাস


[লেখাটি আপনার ভাল লেগেছে? তাহলে দয়াকরে গবেষণামূলক ও ইতিহাস ভিত্তিক এই সাইটটি চালিয়ে যেতে সাহায্য করুন। পার্বত্য চট্টগ্রামে অধিকার বঞ্চিত বাঙ্গালী জনগোষ্ঠী সাইটটি পার্বত্য চট্টগ্রামে সরকার কতৃক চরমভাবে অবহেলিত ও সুবিধা বঞ্চিত, পশ্চিমা সমর্থনপুষ্ঠ এনজিও সমূহের একচোখা নীতি, সন্তু লারমা ও প্রসীত খীসাদের পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস), ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) 'এর নিপিড়িত, নির্যাতিত ও বর্বরতম সন্ত্রাসের নির্মম ও অসহায় শিকার - পার্বত্য চট্টগ্রামে বাঙ্গালী জনগোষ্ঠির সাংবিধানিক অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে ক্ষুদ্রতম এক প্রয়াস]