বৃহস্পতিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৭

জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনের রাজধানী স্বীকৃতি ওআইসির

ট্রাম্পের ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করে জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিল ওআইসি। পূর্ব জেরুসালেমকে ফিলিস্তিনের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিতে সম্মত হয়েছে মুসলিম বিশ্বের বৃহত্তম জোট অরগ্যানাইজেশন অফ ইসলামিক কো-অপারেশন। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।সম্মেলনে গতকাল বৈঠক শেষে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন ওআইসি’র দেশগুলো। এর আগে পূর্ব জেরুসালেমকে ফিলিস্তিনের রাজধানী হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিতে বিশ্বের মুসলিম রাষ্ট্রগুলোকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট। মুসলিম বিশ্বের বৃহত্তম জোটের এই শীর্ষ সম্মেলনে সংস্থার বেশিরভাগ সদস্য দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানরা অংশ নিচ্ছেন। বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদও এতে যোগ দিয়েছেন। ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস বলেছেন, ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্য শান্তি আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ভূমিকা থাকবে না। তিনি বলেন, তার দেশের মানুষ শান্তি আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ভূমিকা থাকুক তা চায় না। অন্যদিকে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোয়ান আরব দেশের নেতাদের যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি পূর্ব জেরুসালেমকে ফিলিস্তিনের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বলেন, ‘ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের ফলে ইসরাইলকে তার সব ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের বৈধতা দেয়া হবে। অর্থাৎ এতদিন ধরে দুর্নীতি, অবরোধ, অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ, বাড়িঘর গুড়িয়ে দেয়া, সহিংসতা, হত্যাসহ যেসব অপরাধ তারা করেছে, তার সব কিছুর বৈধতা পেয়ে যাবে’।

৫৭টি দেশের জোটের সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ‘কঠোর বার্তা’ দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন আয়োজক দেশ তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত চাভুসোগলু। 

গত মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, কিছু আরব দেশ জেরুসালেম ইস্যুতে জোরালোভাবে কোনো সাড়া দিচ্ছে না। তুরস্ক বলছে, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত পুরো বিশ্বকে এমন এক সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে ঠেলে দেবে, যেখান থেকে উদ্ধারের কোনো উপায় থাকবে না। ওআইসি-র এই জরুরি বৈঠকটি ডেকেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোয়ান। 

ওআইসি-এর ঘোষণায় আসতে পারে - যে কোনো মুসলিম দেশকে জেরুসালেম ইস্যুতে আপোস করা চলবে না। ইসরাইলিদের জেরুসালেম নিয়ে এমন কূটকৌশল ব্যর্থ করতে মুসলিম বিশ্বের আন্তরিক চাপ অব্যাহত রাখতে হবে। জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণা এবং এ সংক্রান্ত সব ধরনের সিদ্ধান্তের কঠোর বিরোধিতা করতে হবে মুসলিম দেশগুলোকে। 

এছাড়া ফিলিস্তিনিদের স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ন্যায্য আন্দোলনকে সফল করতে এবং দখলদার ইসরাইলকে শায়েস্তা করতে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও শক্তিশালী সামরিক জোট গড়ারও সিদ্ধান্ত আসতে পারে এই বৈঠক থেকে। 

সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেই ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখানের ঘোষণা দেন ওআইসি মহাসচিব ড. ইউসেফ বিন আহমদ আল-ওসাইমীন। এ সময় তিনি মুসলিম দেশগুলোর নেতাদের সে ইস্যুতে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান। বলেন, ওআইসি আমেরিকার সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করছে এবং তাদের এ সিদ্ধান্তের নিন্দা জানাচ্ছে। ওআইসি মহাসচিব বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। এ ঘোষণার মধ্য দিয়ে মুসলমানদের উত্তেজনার দিকে উসকে দেওয়া হয়েছে। এটা এ অঞ্চলে এবং বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা তৈরি করবে।

গত ৬ ডিসেম্বর জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণা করেন ট্রাম্প। এর এক সপ্তাহের মাথায় ওআইসি’র পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তার সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা এলো। বাংলাদেশ, তুরস্ক, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, কুয়েত ও কাতারসহ মুসলিম দেশগুলোর নেতারা সম্মেলনে অংশ নেন। মুসলিম দেশগুলোর বাইরে ফিলিস্তিনিদের ন্যায়সংগত আন্দোলনের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে বৈঠকে অংশ নেন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো। সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ বলেন, জেরুজালেম ইস্যুতে মুসলিম দেশগুলোর নিশ্চুপ থাকার সুযোগ নেই।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান বলেন, মার্কিন সিদ্ধান্ত অকার্যকর, অবৈধ ও বেআইনি। এ উসকানিমূলক সিদ্ধান্ত থেকে তাদের অবশ্যই সরে আসতে হবে। আমরা আন্তর্জাতিক স¤প্রদায়ের প্রতি দ্রুত পূর্ব জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। তিনি বলেন, ইসরাইল একটি দখলদার ও সন্ত্রাসী রাষ্ট্র। আর মার্কিন সিদ্ধান্ত হচ্ছে তাদের সন্ত্রাসবাদের পুরস্কার। ট্রাম্পের ওই ঘোষণার বিরুদ্ধে ৮ ডিসেম্বর থেকে ইন্তিফাদা বা সর্বাত্মক প্রতিরোধের ডাক দেয় ফিলিস্তিনের মুক্তি আন্দোলনের সংগঠন হামাস। আজ বৃহস্পতিবার এ ইন্তিফাদার ষষ্ঠ দিন চলছে। এর অংশ হিসেবে ফিলিস্তিনের বিক্ষোভে ইসরাইলি বাহিনীর হামলা অন্তত চার জন নিহতের খবর পাওয়া গেছে। আহতের সংখ্যা এরইমধ্যে ১৭০০ ছাড়িয়েছে। এমনকি ইসরাইলি বাহিনী কর্তৃক ফিলিস্তিনি শিশু-কিশোরদের ধরে নিয়ে খাঁচায় বন্দি করে রাখার মতো বর্বরোচিত ঘটনাও ঘটেছে।
 সূত্র : এপি, এএফপি, রয়টার্স।


পার্বত্য চট্টগ্রামে উপজাতি সন্ত্রাসী কর্তৃক বাঙ্গালী গণহত্যা সমূহ:

·      পার্বত্য চট্টগ্রামে উপজাতি সন্ত্রাসী কর্তৃক বাঙ্গালী গণহত্যা

·     পার্বত্য চট্টগ্রামে উপজাতি সন্ত্রাসী কর্তৃক সেনাহত্যার ইতিহাস


[লেখাটি আপনার ভাল লেগেছে? তাহলে দয়াকরে গবেষণামূলক ও ইতিহাস ভিত্তিক এই সাইটটি চালিয়ে যেতে সাহায্য করুন। পার্বত্য চট্টগ্রামে অধিকার বঞ্চিত বাঙ্গালী জনগোষ্ঠী সাইটটি পার্বত্য চট্টগ্রামে সরকার কতৃক চরমভাবে অবহেলিত ও সুবিধা বঞ্চিত, পশ্চিমা সমর্থনপুষ্ঠ এনজিও সমূহের একচোখা নীতি, সন্তু লারমা ও প্রসীত খীসাদের পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস), ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) 'এর নিপিড়িত, নির্যাতিত ও বর্বরতম সন্ত্রাসের নির্মম ও অসহায় শিকার - পার্বত্য চট্টগ্রামে বাঙ্গালী জনগোষ্ঠির সাংবিধানিক অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে ক্ষুদ্রতম এক প্রয়াস]