শুক্রবার, ২৮ এপ্রিল, ২০১৭

বাঘাইছড়িতে তিন বাঙ্গালীকে পিটিয়েছে ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীরা


“রিংওয়েল স্থাপন করতে হলে আমাদেরকে চাঁদা দিতে হয় এটা তোদের ঠিকাদার জানেনা” তাকে বারংবার খবর দেওয়া সত্বেও কেন আমাদের পার্টিকে চাঁদার টাকা দিয়ে আসলো না, আমাদেরকে টাকা নাদিয়ে তোরা এখানে কাজ করতে আসলি কেন? এখনই কাজ বন্ধ কর…….(গালি) এই ধরনের কথা শুনিয়ে বুধবার তিন নিরীহ বাঙ্গালী শ্রমিককে বেদড়ক পিটিয়েছে পার্বত্য চুক্তি বিরোধী পাহাড়িদের আঞ্চলিক সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট ইউপিডিএফ এর একদল সন্ত্রাসী। আহতরা হলেন, মোঃ শাহ আলম (২৬) পিতাঃ আলী হোসেন। মোঃ নুর আলম (২৮)পিতাঃ জামাল হোসেন। তাজুল ইসলাম(৪৫) পিতাঃ চাঁন মিয়া। উভয়ের গ্রাম, বাঘাইছড়ির পশ্চিম মুসলিম ব্লক। বুধবার রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলাধীন রূপকারি ইউনিয়নের দোখাইয়া নামক এলাকায় স্থানীয় উপজাতীয় এলাকাবাসীর জন্য বিশুদ্ধ পানির প্রাপ্তির লক্ষ্যে স্থাপন করা রিংওয়েল এর কাজ করা কালীন উক্ত তিন শ্রমিককে নির্দয়ভাবে পিটিয়েছে পাহাড়ি সন্ত্রাসীরা।


জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে বরাদ্ধকৃত রিংওয়েল স্থাপন করার কাজ করতে গিয়ে নির্মম প্রহারের শিকার হয়েছেন ঔই তিন শ্রমিক। আহতরা জানায়, তাদেরকে কাজ বন্ধ করে দিয়ে হাত মুখ বেধে গভীর জঙ্গলের দিকে নিয়ে গেছিলো সন্ত্রাসীরা। কিন্তু তাদের বেদম প্রহারের কারনে আমরা তিনজনই গুরুত্বর আহত হলে অবস্থা বেগতিক দেখে তাদের নেতার সাথে যোগাযোগ আরে আমাদেরকে বনের মধ্যে ছেড়ে দেয় সন্ত্রাসীরা।

জানা যায়, পাবলিক হেলথ এর মাধ্যমে স্থাপন করা এই রিংওয়েলগুলো স্থাপনের কাজটি পেয়েছিলেন রাঙামাটির ঠিকাদার জনৈক রুবেল। তার কাছে উক্ত রিংওয়েল স্থাপন করতে হলে প্রতিটিতে ২০ হাজার টাকা করে দিতে হবে বলে
ইউপিডিএফ এর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। দাবিকৃত চাঁদার টাকা অগ্রিম প্রদান না করে কাজ করার অপরাধে তিনজন নীরিহ শ্রমিককে নির্দয়ভাবে পিটিয়েছে ইউপিডিএফ এর সন্ত্রাসীরা। লাঠি সোটা ও কাজের জন্য নেওয়া রড দিয়ে তিন
বাঙালী শ্রমিককে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে মারাত্মক ভাবে আহত করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ মারধর করে ওই স্থান
থেকে তাদেরকে টেনে হিচড়ে পাহাড়ের গভীর জঙ্গলের দিকে নিয়ে যায়।

এসময় উপজাতীয় সন্ত্রাসীরা সকলেই নিজেদেরকে তাদের স্থানিয় (ইউপিডিএফ)এর কর্মী বলে দাবী করেন। আহত শ্রমিকদের অবস্থা বেগতিক দেখে, পরে রাত ৮টার দিকে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। তারা বলেন, কোনভাবে কষ্ট
করে জঙ্গল থেকে বেড়িয়ে আসি। পরে পরিচিত কিছু লোকের সহযোগীতায় রাত ১০টার দিকে, বাঘাইছড়ি স্বাস্থ্য
কমপ্লেক্সে তাদের ভর্তি করা হয়।

আহত হওয়া শাহ আলম বলেন, তাদেরকে মারধর করা উপজাতি সন্ত্রাসীদের মধ্যে তিনজনকে চিহ্নিত করতে পেরেছেন। তারা হলো, আসেন্দু চাকমা,(২৪) পিতা অনজ্যত চাকমা, গ্রাম বালুখালী। মটর চাকমা( ২৮) পিতা সিন্দুলাল চাকমা, গ্রাম মগবান, আমিক্কো চাকমা (২২)।

এব্যাপারে ইউপিডিএফ পরিচালক জুয়েল চাকমার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, ঘটনা সম্পর্কে আমার জানা নেই। আমি বর্তমানে এলাকার বাইরে আছি। খোঁজ নিয়ে দেখবো, অন্যকেউ হয়তো ঘটনা ঘটাতে পারে। ইউপিডিএফের উপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করছে।

বাঘাইছড়ি থানার অফিসার্স ইনচার্জ আমিরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আহতদের অভিযোগের
প্রেক্ষিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আহতদের অবস্থার উন্নতি হলে তারা মামলা করবে বলে জানিয়েছেন আহতদের স্বজনরা।

পার্বত্য চট্টগ্রামে উপজাতি সন্ত্রাসী কর্তৃক বাঙ্গালী গণহত্যা সমূহ:

·      পার্বত্য চট্টগ্রামে উপজাতি সন্ত্রাসী কর্তৃক বাঙ্গালী গণহত্যা

·     পার্বত্য চট্টগ্রামে উপজাতি সন্ত্রাসী কর্তৃক সেনাহত্যার ইতিহাস


[লেখাটি আপনার ভাল লেগেছে? তাহলে দয়াকরে গবেষণামূলক ও ইতিহাস ভিত্তিক এই সাইটটি চালিয়ে যেতে সাহায্য করুন। পার্বত্য চট্টগ্রামে অধিকার বঞ্চিত বাঙ্গালী জনগোষ্ঠী সাইটটি পার্বত্য চট্টগ্রামে সরকার কতৃক চরমভাবে অবহেলিত ও সুবিধা বঞ্চিত, পশ্চিমা সমর্থনপুষ্ঠ এনজিও সমূহের একচোখা নীতি, সন্তু লারমা ও প্রসীত খীসাদের পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস), ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) 'এর নিপিড়িত, নির্যাতিত ও বর্বরতম সন্ত্রাসের নির্মম ও অসহায় শিকার - পার্বত্য চট্টগ্রামে বাঙ্গালী জনগোষ্ঠির সাংবিধানিক অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে ক্ষুদ্রতম এক প্রয়াস]