বুধবার, ১৭ মে, ২০১৭

বাবার হত্যাকারীর বিচার দাবি: রুপ কুমার চাকমা


পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) এর  নেতা সন্তু লারমার নির্দেশে আমার বাবা কিনা মোহন চাকমাকে জেএসএস এর সন্ত্রাসীরা হত্যা করেছে। ১১ বছর ধরে আদালতে ঘুরছি কিন্তু বিচার পাচ্ছি না। অথচ যারা আমার বাবার খুনী তারা আজ জন প্রতিনিধি সেজে আছে। এ কেমন বিচার আমি বুঝতে পারছি না। আমার বাবাকে হত্যা করায় আদালতে মামলা করি। যাদের আসামী করা হয় তারা আমার মা বোনকে অপহরন করে ২২ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করে। আমাকেও লংগদু থেকে অপহরন করা হয় মুক্তিপনের বিনিময়ে ছাড়া পাই। আমার বাবা হত্যার মামলা যদি প্রত্যাহার না করি তাহলে আমার বাবার মত আমার পরিণত হবে বলে হুমকি দেয়া হয়েছে। আমি তো এখন নি:স্ব আমার পিছুটান নেই কিন্তু এভাবে আর কতদিন চলবে? এরা যে কোন মুহুর্তে আমাকেও মেরে ফেলতে পারে। আমার মত পার্বত্য এলাকায় হাজার হাজার পাহাড়ী পরিবার রয়েছে যারা তাদের আবেগ অনুভুতি ভয়ে প্রকাশ করতে পারে না। আমার কিছু বুকের পাথর চাপা কথা বলার জন্যে অনেক দিন অপেক্ষা করেছিলাম আজকেই এই বিশাল প্রতিবাদ জনসভায় আমি এসব কথা বললাম। আমরা অনেক সহ্য করেছি, অনেক ত্যাগ করেছি আর নয়। আমার বাবা কিনা মোহন চাকমা জুড়াছড়ি নিজ বাড়ী হতে রাঙ্গামাটি আসার সময়  পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) এর এক দল সন্ত্রাসী পরিকল্পিতভাবে আমার প্রিয় বাবাকে হত্যা করে। কেন হত্যা করা হলো আমি হত্যার বিচার চাই। শুধু আমার বাবা নয়, পার্বত্য অঞ্চলের প্রতিটি ঘরে ঘরে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস), ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)  কর্তৃক পার্বত্য চট্টগ্রামের সন্ত্রাসীদের হাতে ক্ষতিগ্রস্থ হয় নাই, নির্যাতিত হয় নাই এমন কোন পরিবার নাই। বাংলাদেশের সরকারের কাছে আমি বলতে চাই? মানবাধিকার সংস্থার কাছে আমি জানতে চাই? এই পার্বত্য চট্টগ্রামের খুনিদের বিচার হয় না কেন?



শান্তি চুক্তি হয়েছে, সন্তু লারমার নেতৃত্বে অস্ত্র জমা দেয়া হয়েছে তাহলে পাহাড়ে এতো অবৈধ অস্ত্র এলো কোথায় থেকে? চুক্তির ফলে পাহাড়ী বাঙ্গালী মিলে পার্বত্য চট্টগ্রামে আমরা সুখে শান্তি ঘুমাতে পারবো বলে, দুমুঠো ভাল খেতে পারবো বলে অনেক আশা করেছিলাম। কিন্তু তার কোন দেখা নেই। বরং তার বদলে পাহাড়ে সন্ত্রাসী তিনভাগে বিভক্ত হলো। পাহাড়ে সন্ত্রাস আরো বেড়ে গেলো। পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস), ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)  ও সংস্কার পার্টির নামে। এই হলো পার্বত্য অঞ্চলের শান্তি চুক্তির অবস্থা। বর্তমান সরকারকে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) অস্ত্র জমা দিয়েছে কিন্তু বর্তমানে পাহাড়ে অস্ত্রের ঝনঝনানি কোথায় কোথা থেকে এলো? আর প্রশাসন কি চোখে দেখে না? প্রশাসন কি দেখে না পাহাড়ে দিন দুপুরে চাঁদা বাজি হচ্ছে? অস্ত্র নিয়ে পাহাড়ে ঘুরাঘুরি করছে? তাদের ধরছে না কেন?

সরকার ৪৬ বছর পরে এসে যদি যুদ্ধাপরীধের বিচার করতে পারে, জঙ্গীদের সমূলে ধব্বংস করতে পারে তাহলে পার্বত্য এলাকায় সন্ত্রাস, চাদাবাজি বন্ধ করতে পারবে না কেন? যারা মানুষকে খুন করে তাদের বিচার করতে পারবে না কেন? পাহাড়ে কোন হত্যার বিচার হয় না কেন? এই পিঁপড়ার মত পাহাড়ী সন্ত্রসী গ্রুপকে সরকার কেন দমন করতে পারছে না? আমরা আর পাহাড়ে চাঁদাবাজি, গুম, হত্যা, অপহরণ চাই না। হতেই দিবো না, দিতে পারি না। পার্বত্য অঞ্চল বাংলাদেশের ভূখন্ড। সারা দেশে চাঁদা বাজি, গুম, হত্যা, অপহরণের বিচার হতে পারলে এই পার্বত্য অঞ্চলের বিচার হয় না কেন? পাহাড়ের মানুষ কি বাংলাদেশের নাগরিক নয়? সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, অপহরন, খুন গুম বন্ধ ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের দাবিতে পার্বত্য নিপীড়িত নির্যাতিত পার্বত্যবাসীর ব্যানারে ১৪ মে ২০০৭ রোববার দুপুরে রাঙ্গামাটি শহরের জিমনিশিয়াম মাঠে মহাসমাবেশে বক্তব্য প্রদানকালে সাবেক জেলা পরিষদ সদস্য কিনা মোহন চাকমার ছেলে ও জুরাছড়ি উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান রুপ কুমার চাকমা।


পার্বত্য চট্টগ্রামে উপজাতি সন্ত্রাসী কর্তৃক বাঙ্গালী গণহত্যা সমূহ:

·      পার্বত্য চট্টগ্রামে উপজাতি সন্ত্রাসী কর্তৃক বাঙ্গালী গণহত্যা

·     পার্বত্য চট্টগ্রামে উপজাতি সন্ত্রাসী কর্তৃক সেনাহত্যার ইতিহাস


[লেখাটি আপনার ভাল লেগেছে? তাহলে দয়াকরে গবেষণামূলক ও ইতিহাস ভিত্তিক এই সাইটটি চালিয়ে যেতে সাহায্য করুন। পার্বত্য চট্টগ্রামে অধিকার বঞ্চিত বাঙ্গালী জনগোষ্ঠী সাইটটি পার্বত্য চট্টগ্রামে সরকার কতৃক চরমভাবে অবহেলিত ও সুবিধা বঞ্চিত, পশ্চিমা সমর্থনপুষ্ঠ এনজিও সমূহের একচোখা নীতি, সন্তু লারমা ও প্রসীত খীসাদের পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস), ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) 'এর নিপিড়িত, নির্যাতিত ও বর্বরতম সন্ত্রাসের নির্মম ও অসহায় শিকার - পার্বত্য চট্টগ্রামে বাঙ্গালী জনগোষ্ঠির সাংবিধানিক অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে ক্ষুদ্রতম এক প্রয়াস]