সম্প্রীতির পার্বত্য চট্টগ্রামে জ্বলছে অশান্তির আগুন। আর সেই আগুনে পুড়ছে পাহাড়ের ভবিষ্যৎ। পাহাড়ে বসবাসরত সবকটি সম্প্রদায় সম্প্রীতি আর নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে। চাঁদাবাজি, অপহরণ, ধর্ষন আর খুনের আতংকেই পেরোচ্ছে সময়। বর্তমানে পাহাড়ে সবচেয়ে বেশী নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে জাতীয় রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা আর তাদের চোখ রাঙ্গানী প্রভাবিত করছে আঞ্চলিক বাঙ্গালী সংগঠন গুলোকে। গত ২রা ডিসেম্বর শান্তিচুক্তির ২০তম বর্ষপূর্তিতে ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে সাবেক শান্তি বাহিনী ও গেরিলা নেতা, বর্তমানে পার্বত্য জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) সভাপতি ও পার্বত্য আঞ্চলিক পরিষদের অনির্বাচিত এবং হাইকোর্ট হতে ২০১০ সালে অবৈধ ঘোষিত আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান জ্যাতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা ওরফে সন্তু লারমা গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে “শান্তি চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন না হলে পাহাড়ে আগুন জ্বলবে” শীর্ষক হুমকি প্রদর্শন করার পরপরই সম্প্রতি পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির গুইমারা কলেজের নবনির্মিত ভবনের বেশকটি জানালার থাই গ্লাস ২ দফায় ভাংচুর, অস্ত্র উদ্ধার ও রাঙ্গামাটিতে সাবেক এক ইউপি সদস্যকে হত্যার মধ্যে দিয়ে শুরু হয়েছে নতুন ষড়যন্ত্র।
এরপর জেলার বিলাইছড়ি ও জুরাছড়িতে এক আওয়ামীলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা ও আরেক নেতাকে কুপিয়ে মারাত্নক আহত করে সন্ত্রাসীরা, এতেই ক্ষান্ত হয়নি সন্ত্রাসীরা দলীয় নেতা কর্মীদের ওপর হামলা করে হত্যার ঘটনায় এক বিক্ষোভ সমাবেশে অপরাধীদের শাস্তি দাবি করায় রাঙ্গামাটি জেলা মহিলা লীগের এক সহ-সভাপতির বাড়িতে রাতের আঁধারে হামলা চালিয়ে মহিলালীগ নেতৃসহ তার স্বামী ও সন্তানকে কুপিয়ে মারাত্নক আহত করে এবং আওয়ামীলীগ না করতে হুমকি দিয়য়ে যায় সন্ত্রাসীরা।
এরপর একইদিনে খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলায় আরেক উপজাতীয় ব্যক্তির গলাকাটা অজ্ঞাত লাশ পাওয়া গেল নালায়। এছাড়া জেলা আওয়ামীলীগ সেক্রেটারি হাজী মুছা মাতব্বর এক সমাবেশে বলেছেন ” জেএসএস পাহাড়ে অশান্তির আগুন জালিয়েছে আর তা নেভাবে আওয়ামীলীগ”,তাছাড়া তিনি তার বক্তব্যে স্বীকার করেছেন শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য শান্তি চুক্তি করা হলেও পাহাড়ে শান্তি আসেনাই।
এদিকে দলীয় নেতা-নেত্রীদের ওপর হামলা ও খুনের ঘটনায় হরতাল,সমাবেশ পালন করেছে রাঙ্গামাটি জেলা আওয়ামীলীগ,বরাবরের মতো রাঙ্গামাটির আওয়ামীলীগ নেতা দীপংকর তালুকদার ও রাঙ্গামাটির সংরক্ষিত মহিলা সাংসদ চিনু ম্যাডামও পাহাড়ে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন।
প্রশ্ন হলো হরতাল-অবরোধ,বিক্ষোভ সমাবেশ করে কার কাছে দাবি জানানো হচ্ছে? আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় থাকার পর যেখানে ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীরা হত্যা-নির্যাতনের স্বীকার হচ্ছে সেখানে আবার হরতাল – অবরোধ করে সরকারের কাছে কিসের দাবি? সরকার বা প্রশাসন এসব প্রত্যক্ষ করছেন না?
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক-টুইটারে সন্তু লারমার বিরুদ্ধে মামলা করার ব্যাপারে ব্যাপক পোষ্ষ্ট লক্ষ্য করা গেলেও অজ্ঞাত কারণে আওয়ামীলীগ কিংবা নিহত’র পরিবার থেকে কোন মামলা করা হয়নি, দুঃখের বিষয় অবশেষে দ্বায়িত্বের খাতিরে পুলিশই বাদী হয়ে মামলা করেছে এবং এক উপজেলা চেয়ারম্যানসহ আটক করা হয়েছে ১৪জনকে। লাভ কি হবে?
এর আগে খাগড়াছড়ির লক্ষীছড়ির উপজেলা চেয়ারম্যানকে অস্ত্রসহ আটক করলেও তিনি বর্তমানে স্বপদে বহাল।অন্যদিকে রাঙ্গামাটির মহিলা সাংসদ চিনু ম্যাডাম তার ব্যক্তিগত ফেসবুক একাউন্টে একটি পোষ্টে জোর দাবি জানিয়েছেন যে সন্তু লারমা এদেশের নাগরিক নন,তিনি প্রশাসনের নিকট ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানিয়েছেন, তার ঐ পোষ্টে অসংখ্য কমেন্টে সন্তু লারমার বিরুদ্ধে মামলার আবেদন জানানো হলেও তিনি নিশ্চুপ কিংবা তিন দিন পেরিয়ে গেলেও প্রশাসনও এ বিষয়ে নিরব।
অন্যদিকে পাহাড়ের রাজনীতিতে সাম্প্রতিক বিসৃঙ্খলায় বিরোধী দল বিএনপির ব্যাপক নিরবতাও পরিলক্ষিত হয়েছে।
এছাড়া দীর্ঘদিন যাবৎ পাহাড়ে সাধারণ লোকজন ছাড়াও জাতীয় রাজনৈতিক দল আওয়ামীলীগ-বিএনপির বহু নেতাকর্মি উপজাতীয় সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত হওয়ার পর গুটিকয়েক সন্দেহভাজন আসামী গ্রেফতার হলেও সুষ্ঠু বিচারের অভাবে জামিনে বের হয়ে তারা পূর্বের আস্তানায় ফিরে গিয়ে আরো সহিংস হয়ে উঠেছে।
তদুপরি গতকাল রাঙ্গামাটিতে সুষ্ঠু বিচারের অভাব ও সরকারের নিরবতায় আতঙ্কিত আওয়ামীলীগের ডজন খানেক নেতা দল থেকে পদত্যাগ করেছেন। সম্প্রতি সহিংসতার মাত্রা সীমা পেরিয়ে গেলেও সরকারী দলের স্থানীয় দুই নেতা দীপংকর বাবু আর চিনু ম্যাডাম ছাড়া দলের হাইকমান্ড কিংবা বিরোধী দল বিএনপির নিরবতা পালনে ব্যাপক ক্ষোভ ও ভীতি লক্ষ্যে করা গেছে পাহাড়ের রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের মাঝে।
পাহাড়ের বর্তমান পরিস্থিতে কে পাহাড়ী? কে বাঙ্গালী? তার বিভেদ না রেখে পার্বত্য এলাকায় আওয়ামীলীগ-বিএনপি-জামাত-জাতীয় পার্টি কিংবা পাহাড়ী-বাঙ্গালী মধ্যে বিরোধ নয় বরং সম্মিলিত পার্বত্যবাসীকে এক হয়ে সন্ত্রাসীদের প্রতিরোধ করার দাবি উঠেছে পাহাড়ের সচেতন মহলে। অন্যথায় পাহাড়ে রাজনৈতিক দলগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা থেকেই যায়।উক্ত পরিস্থিতি চলতে থাকলেপাহাড়ে রাজনৈতিক দলগুলোর ভবিষ্যত কি হবে তার উত্তর পাঠকের কাছেই চাই।
লেখক: সাইফুল ইসলাম সিএইচটি
·
পার্বত্য চট্টগ্রামে উপজাতি সন্ত্রাসী কর্তৃক বাঙ্গালী গণহত্যা
· পার্বত্য চট্টগ্রামে উপজাতি সন্ত্রাসী কর্তৃক সেনাহত্যার ইতিহাস
পার্বত্য চট্টগ্রামে উপজাতি সন্ত্রাসী কর্তৃক বাঙ্গালী গণহত্যা সমূহ:
·
পার্বত্য চট্টগ্রামে উপজাতি সন্ত্রাসী কর্তৃক বাঙ্গালী গণহত্যা
· পার্বত্য চট্টগ্রামে উপজাতি সন্ত্রাসী কর্তৃক সেনাহত্যার ইতিহাস
[লেখাটি আপনার ভাল লেগেছে? তাহলে দয়াকরে গবেষণামূলক ও ইতিহাস
ভিত্তিক এই সাইটটি চালিয়ে যেতে সাহায্য করুন। পার্বত্য চট্টগ্রামে অধিকার বঞ্চিত
বাঙ্গালী জনগোষ্ঠী সাইটটি পার্বত্য চট্টগ্রামে সরকার কতৃক চরমভাবে অবহেলিত ও
সুবিধা বঞ্চিত, পশ্চিমা সমর্থনপুষ্ঠ এনজিও সমূহের একচোখা নীতি, সন্তু লারমা ও
প্রসীত খীসাদের পার্বত্য চট্টগ্রাম
জনসংহতি সমিতি (জেএসএস), ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) 'এর নিপিড়িত, নির্যাতিত ও বর্বরতম সন্ত্রাসের নির্মম ও অসহায়
শিকার - পার্বত্য চট্টগ্রামে বাঙ্গালী জনগোষ্ঠির সাংবিধানিক অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে
ক্ষুদ্রতম এক প্রয়াস]
